
ব্রহ্মসের পর — ড্রোন ও ‘স্মার্ট’ অস্ত্রের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি রেকর্ড ভেঙে দিল
ড্রোন ও ‘স্মার্ট’ অস্ত্রের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ব্রহ্মসের পর নতুন প্রযুক্তি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নয়াদিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি গত আর্থিক বছরে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ‘ব্রহ্মস’ মিসাইলই দেশের রপ্তানির মুখ্য চিহ্ন ছিল, তবে এখন ড্রোন, লেজার‑গাইডেড মিসাইল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট’ অস্ত্রের সঙ্গে রপ্তানি পরিমাণ রেকর্ড ভাঙিয়ে দিয়েছে। এই পরিবর্তনটি দেশের শিল্প নীতি ও গবেষণা‑উন্নয়ন খাতে একত্রে গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রহ্মসের বিক্রয় এখন তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, কারণ গ্রাহক দেশগুলো স্বল্প‑দূরত্বের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের প্রতি বেশি ঝোঁক দেখাচ্ছে। ভারতীয় শাসনপরিষদের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ নীতি ও ‘ডিফেন্স মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি মূল্যের সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। ফলে, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশই নতুন ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ক্রয় করতে ইচ্ছুক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করবে। ড্রোনের স্বল্প‑খরচ ও উচ্চ নির্ভুলতা, পাশাপাশি ‘স্মার্ট’ অস্ত্রের রিয়েল‑টাইম ডেটা শেয়ারিং ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের পণ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে, প্রযুক্তি সুরক্ষা ও সাইবার হুমকি মোকাবেলায় যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনও তীব্রভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ব্রহ্মসের ঐতিহ্যিক গৌরব এখন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মিশে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানিকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। রপ্তানি পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি গবেষণা‑উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, তবে ভারতের প্রতিরক্ষা পোর্টফোলিও বিশ্ববাজারে আরো শক্তিশালী অবস্থান দখল করবে।




